বিদ্যুতের অপচয় রোধ করুন ---::--- অপ্রয়োজনীয় বাতি ও ফ্যান বন্ধ রাখুন ---::--- বিকাল ৫টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত শিল্প কারখানা বন্ধ রাখুন ---::--- অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

জেনারেল ম্যানেজারের প্রতিবেদন

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।


“শেখ হাসিনার উদ্যোগ-ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ”

উপস্থিত সম্মানিত গ্রাহক সদস্যবৃন্দ, সমিতি বোর্ডের সভাপতি, নির্বাহী কমিটির সদস্য মন্ডলী ও পরিচালক মন্ডলী, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড হইতে আগত কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধী মন্ডলী আসসালামু আলাইকুম।
শীতের এই মৃদুমন্দ সকালে সকল কর্মব্যস্ততা উপেক্ষা করে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২২তম বার্ষিক সদস্য সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সমিতি ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

সম্মানিত সুধী মন্ডলী
আধুনিক বিশ্বে বিদ্যুৎ উন্নয়নের চালিকাশক্তি। গ্রাম নির্ভর আমাদের এ বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য গ্রামের উন্নয়ন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই গ্রাম-বাংলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রত্যয় নিয়ে তৎকালীন সরকারের এক অধ্যাদেশ বলে ১৯৭৭ সালে আবির্ভূত হয় পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একটি পশ্চদপদ ও অনগ্রসর অথচ ঐতিহ্যবাহী জেলা নেত্রকোণা। জেলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ- সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। কিন্তু কাজটি ছিল অত্যন্ত দূরহ ও ব্যয়বহুল। তথাপি অত্রাঞ্চলের জনগনের আর্থ সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে নেত্রকোণা জেলার ১০টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার একটি উপজেলার সমন্বয়ে দেশের ৪৫তম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি হিসাবে ১৪ফেব্রুয়ারি’১৯৯৫খ্রি: আনুষ্ঠানিক বিুদ্যতায়নের মাধ্যমে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তার অগ্রযাত্রা শুরু করে।

সম্মানিত গ্রাহক সদস্যবৃন্দ,
লোডশেডিং একসময় জাতীয় সমস্যা ছিল। বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে অনেক হ্রাস পেয়েছে। এখণ সেচ মৌসুম চলছে। সেচ মৌসুমে সমিতির বিদ্যুতের চাহিদা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়, তাই সেচ কার্যে নিরিবিচ্ছিন্ন এবং সঠিক ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকা হতে রাত ১১.০০ ঘটিকা পর্যন্ত সকল সেচ, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ওয়ার্কসপে বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করছি। এ-ছাড়া রাত ৮.০০ ঘটিকার পর সকল দোকান-পাট ও শপিং মল সমূহ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করছি।

নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সমিতির ০৮(আট) টি সাব-স্টেশন (৭৫ এমভিএ) স্থাপন করা আছে। আরও ২টি সাব-স্টেশন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন আছে। গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন ও নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে, ওভারলোড ট্রান্সফরমার সমূহ দ্রুত পরিবর্তনসহ বিতরণ লাইনের তারও পরিবর্তন করা হচ্ছে।

সম্মানিত সুধী ও গ্রাহক সদস্যবৃন্দ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান। উন্নত গ্রাহক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই সমিতির সদর দপ্তর ছাড়াও সমিতির ভৌগলিক এলাকায় ০৪টি জোনাল অফিস, ৩টি এরিয়া অফিস ও ৯টি অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়নের সফল বাস্তবায়নের জন্য সমিতির স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন অপরিহার্য। বিদ্যুৎ বিক্রির অর্থ সমিতির একমাত্র আয়ের উৎস। সমিতিকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সময়মত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা প্রত্যেক গ্রাহক সদস্যের পবিত্র দায়িত্ব। সম্মানিত গ্রাহক সদস্যবৃন্দ, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, গ্রাহক সদস্য মাত্রই সমিতির মালিক ও রক্ষক। কিন্তু এক শ্রেনীর অসাধু ও দুর্নীতি পরায়ন লোক অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার, মিটার টেম্পারিং, বৈদ্যুতিক লাইনের স্থাপিত তার ও ট্রান্সফরমার চুরি করে সমিতির স্বাভাবিক অগ্রগতিকে ব্যহত করছে ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীগণ দিবারাত্রি অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধ ও সিষ্টেম লস নিয়ন্ত্রনে সচেষ্ট রয়েছেন। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে প্রতিহত করুন ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করুন। সমিতির সিস্টেম লস গ্রহনযোগ্য পর্যায়ে আনায়ন পূর্বক সমিতিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য সম্মানিত গ্রাহক সদস্যসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

আজকের এই মহতি অনুষ্ঠানে সম্মানিত গ্রাহক সদস্যগণকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধসহ সম্মিলিতভাবে বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি প্রতিহত করনের অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে নির্ভরযোগ্য ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বার্থে বৈদ্যুতিক লাইন সংলগ্ন ডাল-পালা কাটা, বৈদ্যুতিক লাইনের নীচে ঘরবাড়ি তৈরী না করা এবং সমিতির দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা সহ উৎপাদনশীল খাতে বিদ্যুতের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি।

সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনায় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা প্রদান করায় সম্মানিত গ্রাহক সদস্য সমিতি পরিচালনা বোর্ড, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সকল স্তরের সহকর্মীদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। পরিশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য ও নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বক্তব্য শেষ করছি। আল্লাহ্ হাফেজ।

মো: মজিবুর রহমান
জেনারেল ম্যানেজার
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

“উত্তম গ্রাহক সেবাই সমিতির মূল লক্ষ্য”